SIR-এর পর ভোটার তালিকায় নাম বাদ? আবার নাম তোলার সুযোগ, কীভাবে আবেদন করবেন জানাল নির্বাচন কমিশন
Meta Description: SIR-এর পর ভোটার তালিকায় নাম নেই? এবার আর আপিলের শুনানির জন্য অপেক্ষা নয়। ERO-এর কাছে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যাবে। জানুন পুরো নিয়ম, প্রয়োজনীয় তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

SEO Keywords: SIR ভোটার তালিকা, SIR-এর পর নাম তোলা, ভোটার তালিকায় নাম নেই, ভোটার লিস্টে নাম তোলার নিয়ম, ERO-র কাছে আবেদন, নতুন ভোটার নাম তোলা, পশ্চিমবঙ্গ ভোটার তালিকা, SIR ভোটার নাম বাদ, ভোটার তালিকা ২০২৬, Election Commission SIR read more..
SIR-এর পর ভোটার তালিকায় নাম নেই? এবার কী করবেন
ভোটার তালিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা সামনে আনল নির্বাচন কমিশন। SIR বা Special Intensive Revision-এর পর যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই, তাঁদের জন্য আবার নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
শুধু SIR-এর সময় নাম বাদ পড়েছে এমন ভোটাররাই নন, যাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ওঠেনি, তাঁরাও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট Electoral Registration Officer বা ERO-এর কাছে আবেদন করতে পারবেন। এমনকি যাঁরা SIR-পরবর্তী সময়ে নাম ফেরানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন, কিন্তু এখনও সেই আপিলের নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁরাও নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার সুযোগ পাবেন বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটার তালিকায় নাম নিয়ে সমস্যায় থাকা বহু মানুষের সামনে নতুন একটি পথ খুলেছে। এতদিন নাম বাদ পড়ার পরে অনেকেই আপিলের শুনানি ও সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু কমিশনের সাম্প্রতিক অবস্থান অনুযায়ী, শুধু সেই শুনানির অপেক্ষায় বসে থাকার প্রয়োজন নেই। নিয়ম মেনে আবারও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যেতে পারে।
তবে এই বিষয়টি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মাথায় রাখা দরকার। আবেদন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়ে যাবে না। সংশ্লিষ্ট ERO আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করবেন। সেই যাচাইয়ের পর নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থাৎ, SIR-এর পরে ভোটার তালিকায় নিজের নাম দেখতে না পেলে বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে নিয়ম মেনে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
এই প্রতিবেদনে জানানো হল SIR-এর পরে নাম বাদ পড়লে কী করা যাবে, কোথায় আবেদন করতে হবে, ERO-এর ভূমিকা কী, নতুন ভোটাররা কীভাবে আবেদন করতে পারবেন, ট্রাইব্যুনালে চলা আপিলের সঙ্গে নতুন আবেদনের সম্পর্ক কী এবং গোটা বিষয়টি সাধারণ ভোটারের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ। also read..
কী এই SIR? সহজ ভাষায় বুঝে নিন
SIR-এর পুরো অর্থ Special Intensive Revision। ভোটার তালিকা সংশোধন ও পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে এটি একটি বিশেষ ধরনের প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় থাকা তথ্য পরীক্ষা করা, প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করা এবং তালিকার যোগ্য ভোটারদের তথ্য নিশ্চিত করার কাজ করা হয়।
ভোটার তালিকা একটি চলমান নথি। সময়ের সঙ্গে মানুষের ঠিকানা পরিবর্তন হয়, নতুন ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য হন, আবার কারও মৃত্যু হলে তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হয়। একইভাবে কোনও ভোটারের তথ্যের মধ্যে ভুল থাকলে সেটিও সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।
এই কারণেই ভোটার তালিকা নিয়মিতভাবে সংশোধন ও আপডেট করার প্রক্রিয়া থাকে।
SIR-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বিস্তৃতভাবে যাচাইয়ের সঙ্গে যুক্ত। এই ধরনের বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার পর কারও নাম তালিকায় না থাকলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হতে পারে—কেন নাম নেই, কীভাবে নাম ফেরানো যাবে এবং ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে কী করতে হবে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এমন ভোটারদের জন্য নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
SIR-এর পর নাম বাদ পড়লে কি আবার আবেদন করা যাবে?
হ্যাঁ। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, SIR-এর সময় বা SIR-এর পরে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই, তাঁরা আবার ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এখানে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, SIR-এর কারণে নাম বাদ পড়েছে বলে যাঁরা মনে করছেন, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন।
দ্বিতীয়ত, যাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ওঠেনি, তাঁরাও আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
তৃতীয়ত, কোনও ব্যক্তি আগে নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আপিল করে থাকলেও, সেই আপিল এখনও নিষ্পত্তি না হয়ে থাকলে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।
অর্থাৎ, কোনও ভোটারের নাম বর্তমানে তালিকায় না থাকলে শুধুমাত্র পুরনো আপিলের ফলাফলের অপেক্ষায় থাকার প্রয়োজন নেই। তিনি নিয়ম অনুযায়ী নতুন করে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারেন।

কোথায় আবেদন করবেন?
এই প্রশ্নটিই বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট Electoral Registration Officer বা ERO-এর কাছে আবেদন করতে হবে।
ERO হলেন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি, সংশোধন এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী নথি যাচাইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক।
কোনও ব্যক্তি আবেদন করার পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা হবে। যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট আধিকারিক সিদ্ধান্ত নেবেন আবেদনকারী ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য যোগ্য কি না।
তাই আবেদন করার সময় তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নাম, ঠিকানা, বয়স, পরিচয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যের ক্ষেত্রে ভুল থাকলে পরবর্তী যাচাইয়ের সময়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের তথ্য ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া প্রয়োজন।
ERO-এর কাছে আবেদন করার অর্থ কী?
অনেক সাধারণ ভোটার ERO শব্দটির সঙ্গে পরিচিত নাও হতে পারেন। সহজভাবে বলতে গেলে, ভোটার তালিকার নির্দিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নিবন্ধন আধিকারিক হলেন ERO।
ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন, সংশোধন বা অন্যান্য নির্বাচনী নিবন্ধন সংক্রান্ত কাজের ক্ষেত্রে ERO গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
SIR-এর পরে কারও নাম না থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ERO-এর কাছে আবেদন করার কথা বলা হয়েছে।
আবেদন পাওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য যাচাই করবে। সেই যাচাইয়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না।
এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে—আবেদন এবং অনুমোদন এক বিষয় নয়।
আবেদন করা মানে ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রক্রিয়া শুরু করা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা যাচাই ও নিয়ম মেনে সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
আগে কী সমস্যা ছিল?
SIR-এর পরে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকায় না থাকায় তাঁরা বিষয়টি নিয়ে আপিল করেছিলেন। সেই আপিলের শুনানি এবং সিদ্ধান্তের জন্য অনেককে অপেক্ষা করতে হচ্ছিল।
ফলে একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে ভোটার তালিকায় নাম নেই, আবার নাম ফেরানোর জন্য আপিল করা হয়েছে, কিন্তু সেই আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কী করবেন—এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।
এখন নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র পুরনো আপিলের শুনানির জন্য অপেক্ষা করতেই হবে এমন নয়। নিয়ম মেনে নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যাবে।
এই পরিবর্তনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে নাম তালিকায় নেই এমন মানুষ সরাসরি নতুন করে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় যেতে পারবেন।
ট্রাইব্যুনালে আপিল করলেও কি নতুন করে আবেদন করা যাবে?
কমিশনের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, হ্যাঁ।
যাঁদের নাম SIR-এর সময় বা পরে ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে এবং তাঁরা সেই নাম ফেরানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন, কিন্তু সেই আপিলের এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁরাও নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।
অর্থাৎ, একটি পুরনো আপিল বিচারাধীন রয়েছে বলে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার পথ বন্ধ থাকছে না।
তবে এখানে আবারও মনে রাখা প্রয়োজন, নতুন আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়ম মেনে তথ্য ও নথি যাচাই করবে।
সেই যাচাইয়ের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শুধু বাদ পড়া ভোটারদের জন্য নয়, নতুন ভোটাররাও আবেদন করতে পারবেন
এই পুরো প্রক্রিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—সুযোগটি শুধু SIR-এর কারণে বাদ পড়া ভোটারদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়।
যাঁরা প্রথমবার ভোট দিতে চলেছেন, অর্থাৎ নতুন ভোটার, তাঁরাও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রতি বছর বহু তরুণ-তরুণী ভোট দেওয়ার যোগ্য বয়সে পৌঁছন। তাঁদের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াও চলমান থাকে।
তাই SIR-পরবর্তী সময়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগকে শুধু বাদ পড়া ভোটারদের বিষয় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
নতুন ভোটাররাও নিয়ম মেনে আবেদন করতে পারবেন।
Continuous Updation কী?
ভোটার তালিকা সবসময় একটি নির্দিষ্ট সময়ে স্থির হয়ে থাকে না। নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তালিকায় পরিবর্তন আনা যায়।
একে বলা হয় Continuous Updation, অর্থাৎ ভোটার তালিকার নিরবচ্ছিন্ন হালনাগাদ প্রক্রিয়া।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগ্য নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা, প্রয়োজনীয় সংশোধন করা এবং নিয়ম অনুযায়ী ভোটার তালিকাকে আপডেট রাখার ব্যবস্থা থাকে।
কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, SIR-এর পরে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই, তাঁরাও এই চলমান আপডেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।
SIR-এর পর নাম নেই—কীভাবে এগোবেন?
পুরো বিষয়টি সহজভাবে কয়েকটি ধাপে বোঝা যেতে পারে।
প্রথম ধাপ: ভোটার তালিকায় নাম পরীক্ষা করুন
প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে আপনার নাম সত্যিই বর্তমান ভোটার তালিকায় নেই কি না।
শুধু পরিচিত কারও কথার ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকায় নিজের নাম পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয় ধাপ: নাম না থাকলে আবেদন করার প্রস্তুতি নিন
নাম না থাকলে সংশ্লিষ্ট ERO-এর কাছে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার ব্যবস্থা করতে হবে।
তৃতীয় ধাপ: প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত করুন
আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য ও প্রাসঙ্গিক নথি দিতে হবে।
চতুর্থ ধাপ: আবেদন জমা দিন
নির্ধারিত নিয়ম মেনে ERO-এর কাছে আবেদন করতে হবে।
পঞ্চম ধাপ: যাচাই প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করুন
আবেদন জমা দেওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য ও নথি যাচাই করবে।
ষষ্ঠ ধাপ: সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করুন
যাচাইয়ের পরে নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কেন সঠিক তথ্য দেওয়া জরুরি?
ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আবেদন করার সময় নামের বানান, ঠিকানা বা অন্যান্য তথ্য ভুল হলে পরবর্তী যাচাইয়ের সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
একইভাবে এমন কোনও তথ্য দেওয়া উচিত নয় যা আবেদনকারীর প্রকৃত পরিস্থিতির সঙ্গে মেলে না।
ভোটার তালিকার আবেদন একটি সরকারি প্রক্রিয়া। তাই আবেদন করার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
যাঁরা আগে ভোটার তালিকায় ছিলেন এবং SIR-এর পরে নাম দেখতে পাচ্ছেন না, তাঁদের ক্ষেত্রেও পুরনো তথ্যের সঙ্গে বর্তমান তথ্য মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
SIR-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরও কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?
রাজ্যের SIR-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছিল বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।
কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরেও ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া, নাম ফেরানো এবং নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয় নিয়ে নানা আবেদন ও আপিল চলতে থাকে।
ফলে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হলেই সংশ্লিষ্ট সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়—এমন নয়।
যাঁদের নাম তালিকায় নেই, তাঁদের জন্য পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট নিয়মে আবেদন করার সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
এই কারণেই নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা সাধারণ ভোটারদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
ট্রাইব্যুনালে কতগুলি আপিল জমা পড়েছে?
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, SIR সংক্রান্ত মোট আপিলের সংখ্যা প্রায় ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার।
এই বিপুল সংখ্যক আপিলের মধ্যে দুই ধরনের বিষয় রয়েছে।
একটি হল ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম ফেরানোর আবেদন।
অন্যটি হল ভোটার তালিকায় কোনও ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে করা আপত্তি বা আপিল।
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২২ লক্ষ ২১ হাজারের বেশি আবেদন হয়েছে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম ফেরানোর জন্য।
অন্যদিকে প্রায় ১৬ লক্ষ ১০ হাজার আবেদন হয়েছে ভোটার তালিকায় অন্য কারও নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে।
অর্থাৎ, SIR-পরবর্তী পরিস্থিতিতে শুধু বাদ পড়া নামের বিষয় নয়, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধেও বিপুল সংখ্যক আবেদন হয়েছে।
কতগুলি আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে?
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লক্ষ ২৬ হাজার ১৯৪টি আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে।
অন্যদিকে বাকি আপিলের সংখ্যা ৩৭ লক্ষেরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই বিপুল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সময় লাগছে।
এই পরিস্থিতির কারণেই আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বর্তমানে কতগুলি ট্রাইব্যুনাল রয়েছে?
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল SIR-সংক্রান্ত আপিলের বিষয়গুলি দেখছে।
কিন্তু বিপুল সংখ্যক আপিলের তুলনায় এই সংখ্যক ট্রাইব্যুনালে দ্রুত সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তি করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
দ্রুত কাজ শেষ করার উদ্দেশ্যে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
৪২টি ট্রাইব্যুনাল করার প্রস্তাব
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, SIR-সংক্রান্ত আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪২টি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি কাজের গতি বাড়ানোর জন্য বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের বাড়ি থেকে কাজ করার এবং অনলাইনে শুনানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়ও আদালতের কাছে বিবেচনার জন্য জানানো হয়েছে বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।
এর মূল উদ্দেশ্য হল বিপুল সংখ্যক আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
কেন এত বেশি আপিল জমা পড়েছে?
SIR-এর মতো বৃহৎ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যক মানুষের তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়।
যাঁদের নাম তালিকায় পাওয়া যাচ্ছে না, তাঁদের মধ্যে অনেকে নাম ফেরানোর জন্য আপিল করেছেন।
অন্যদিকে ভোটার তালিকায় কারও নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপত্তি থাকলেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
ফলে দুই ধরনের আবেদন মিলিয়ে মোট আপিলের সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছে।
এ কারণেই ট্রাইব্যুনালের ওপর কাজের চাপও বেড়েছে।
নাম বাদ যাওয়ার পর শুধু ট্রাইব্যুনালের ওপর নির্ভর করতে হবে না
এই নতুন নির্দেশনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্ভবত এখানেই।
আগে কোনও ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় না থাকলে এবং তিনি নাম ফেরানোর জন্য আপিল করলে, সেই আপিলের শুনানি ও সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হতো।
এখন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই অপেক্ষার পাশাপাশি নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
অর্থাৎ, ভোটারকে কেবল একটি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে বসে থাকতে হবে না।
তবে এর মানে এই নয় যে ট্রাইব্যুনালে করা পুরনো আপিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া ও কর্তৃপক্ষের নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।
নতুন আবেদন এবং পুরনো আপিলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।
ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে কেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার?
ভোটার তালিকায় নিজের নাম রয়েছে কি না, তা প্রত্যেক যোগ্য ভোটারেরই পরীক্ষা করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে SIR-এর পরে যদি কেউ দেখেন যে তাঁর নাম তালিকায় নেই, তাহলে বিষয়টি ফেলে না রেখে নির্দিষ্ট নিয়মে আবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত।
কারণ ভোট দেওয়ার জন্য ভোটার তালিকায় নাম থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
নাম নিয়ে কোনও সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট ERO-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য নেওয়া যেতে পারে।
নতুন ভোটারদের জন্য কী বার্তা?
যাঁরা প্রথমবার ভোট দিতে চলেছেন, তাঁদের জন্যও এই সুযোগটি গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ভোটারদের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। যোগ্য বয়সে পৌঁছানোর পরে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যায়।
SIR-পরবর্তী সময়ে নতুন ভোটারদেরও ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ রয়েছে বলে কমিশনের বক্তব্য।
তাই প্রথমবার ভোট দিতে চলা তরুণ-তরুণীদের নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে কি না, তা আগে থেকেই পরীক্ষা করে দেখা উচিত।
নাম না থাকলে নিয়ম মেনে আবেদন করতে হবে।
কমিশন আধিকারিকদের কী নির্দেশ দিয়েছে?
সাধারণ মানুষের জন্য এই প্রক্রিয়া সহজ করতে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে।
বিশেষ করে—
- রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক
- জেলা নির্বাচনী আধিকারিক
- Electoral Registration Officer বা ERO
—তাঁদের সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি যোগ্য ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার জন্য বিশেষ প্রচার অভিযান চালানোর কথাও বলা হয়েছে।
সচেতনতা প্রচারের প্রয়োজন কেন?
ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সরকারি প্রক্রিয়া অনেক সময় সাধারণ মানুষের কাছে জটিল মনে হতে পারে।
অনেকেই জানেন না নাম বাদ গেলে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে, কার কাছে আবেদন করতে হবে অথবা নতুন করে নাম তোলার সুযোগ রয়েছে কি না।
ফলে তথ্যের অভাবে কোনও যোগ্য ব্যক্তি আবেদন না করেই থেকে যেতে পারেন।
এই কারণেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।
সাধারণ মানুষ যাতে নিজের ভোটার তালিকার তথ্য পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজন হলে আবেদন করেন—সেটাই এই ধরনের সচেতনতা প্রচারের অন্যতম উদ্দেশ্য।
নাম বাদ পড়েছে কিনা কীভাবে বুঝবেন?
কোনও ভোটারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত নিজের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা।
অনেক সময় ভোটার ধরে নেন যে বহু বছর ধরে ভোট দেওয়ার কারণে তাঁর নাম নিশ্চয়ই তালিকায় রয়েছে। কিন্তু তালিকা সংশোধন বা তথ্য যাচাইয়ের পরে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে।
তাই অনুমানের পরিবর্তে বর্তমান তালিকায় নিজের নাম পরীক্ষা করা উচিত।
নাম পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে বিষয়টি জানানো এবং প্রয়োজনীয় আবেদন করা যেতে পারে।
পুরনো ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
যাঁরা বহু বছর ধরে ভোট দিয়ে আসছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও ভোটার তালিকা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
পুরনো ভোটার হলেই নাম সবসময় বর্তমান তালিকায় থাকবে—এমন ধরে নেওয়া উচিত নয়।
SIR-এর পরে যাঁদের নাম তালিকায় নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে কমিশনের দেওয়া নতুন সুযোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁরা সংশ্লিষ্ট ERO-এর কাছে আবেদন করতে পারবেন।
ঠিকানা পরিবর্তন করলে কী হবে?
অনেক ভোটার এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলে যান। বিশেষ করে চাকরি, ব্যবসা, পড়াশোনা বা পারিবারিক কারণে ঠিকানা পরিবর্তন হতে পারে।
এই ধরনের ক্ষেত্রে ভোটার তালিকার তথ্যও সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আপডেট করার প্রয়োজন হতে পারে।
তাই আবেদন করার সময় নিজের বর্তমান ঠিকানা এবং ভোটার তালিকার তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
ঠিকানা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নেওয়া যেতে পারে।
আবেদন করার আগে কী কী বিষয় খেয়াল করবেন?
ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা ভালো।
১. নিজের নামের বানান পরীক্ষা করুন।
নাম ভুল লিখলে পরে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।
২. ঠিকানা সঠিক দিন।
বর্তমান বাসস্থান সম্পর্কিত তথ্য সঠিক হওয়া জরুরি।
৩. প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখুন।
আবেদন যাচাইয়ের সময় প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হতে পারে।
৪. একই তথ্য বারবার ভুলভাবে জমা দেবেন না।
একাধিক আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের নির্দেশনা নেওয়া ভালো।
৫. আবেদন জমা দেওয়ার পরে প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ রাখুন।
আবেদন করার পর যাচাই প্রক্রিয়া হতে পারে।
আবেদন করলেই কি নাম নিশ্চিতভাবে উঠবে?
না, বিষয়টি এভাবে দেখা ঠিক হবে না।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আবেদন করার পরে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি যাচাই করা হবে।
সেই যাচাইয়ের পরে সংশ্লিষ্ট ERO নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
তাই আবেদন করার সুযোগ থাকা এবং আবেদন অনুমোদিত হওয়া—দুটি আলাদা বিষয়।
যোগ্যতা, তথ্য ও নথিপত্র যাচাইয়ের পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
SIR-এর পর ভোটারদের জন্য নতুন সুযোগের গুরুত্ব
ভোটার তালিকায় নাম না থাকা কোনও যোগ্য নাগরিকের জন্য স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের বিষয় হতে পারে।
বিশেষ করে যদি কেউ আগে ভোট দিয়ে থাকেন এবং হঠাৎ দেখেন তাঁর নাম বর্তমান তালিকায় নেই, তাহলে তিনি কী করবেন তা জানা জরুরি।
নির্বাচন কমিশনের নতুন অবস্থান সেই জায়গাতেই গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ এখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শুধুমাত্র পুরনো আপিলের শুনানির অপেক্ষায় না থেকে নতুন করে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।
এতে ভোটার তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের জন্য একটি অতিরিক্ত প্রক্রিয়াগত সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের কাজের সঙ্গে নতুন আবেদনের সম্পর্ক
SIR-সংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক আপিল বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে রয়েছে বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।
একদিকে নাম বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন, অন্যদিকে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপত্তি—দুই ধরনের বিষয়ই ট্রাইব্যুনালে জমা হয়েছে।
এই বিপুল সংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু একই সময়ে নির্বাচন কমিশন জানাচ্ছে, যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই তাঁরা নতুন করে ERO-এর কাছে আবেদন করতে পারেন।
ফলে ভোটার তালিকায় নাম সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রে এখন একটি বিকল্প আবেদন প্রক্রিয়াও সামনে রয়েছে।
৩৮ লক্ষের বেশি আপিল কেন গুরুত্বপূর্ণ?
প্রায় ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার আপিলের সংখ্যা থেকেই বোঝা যায়, SIR-পরবর্তী সময়ে ভোটার তালিকা নিয়ে বড় সংখ্যক মানুষ কোনও না কোনও ধরনের আপিল করেছেন।
এর মধ্যে ২২ লক্ষের বেশি আবেদন নাম বাদ যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে প্রায় ১৬ লক্ষ ১০ হাজার আবেদন হয়েছে কারও নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে।
অর্থাৎ, বিষয়টি কেবল নাম বাদ যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
ভোটার তালিকার অন্তর্ভুক্তি এবং বাদ দেওয়া—দুই ক্ষেত্রেই বহু আবেদন রয়েছে।
১৬ সেপ্টেম্বরের হিসাব কী বলছে?
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১ লক্ষ ২৬ হাজার ১৯৪টি আপিল নিষ্পত্তি হয়েছিল।
এর ফলে বিপুল সংখ্যক আবেদন তখনও বিচারাধীন ছিল।
এই পরিস্থিতিতে সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তি করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে—এমন বিষয় সামনে এসেছে।
তাই ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাবের পাশাপাশি অনলাইন শুনানি এবং অন্যান্য ব্যবস্থার কথাও বিবেচনার জন্য জানানো হয়েছে।
সাধারণ ভোটারের জন্য এর অর্থ কী?
সাধারণ ভোটারের কাছে এই পুরো বিষয়টি শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্নেই এসে দাঁড়ায়—“আমার নাম ভোটার তালিকায় আছে কি না?”
যদি থাকে, তাহলে সাধারণত আলাদা করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার প্রয়োজন নেই।
কিন্তু যদি নাম না থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করে সংশ্লিষ্ট ERO-এর কাছে যোগাযোগ করা উচিত।
SIR-এর কারণে নাম বাদ পড়েছে বলে মনে হলেও, অথবা নাম চূড়ান্ত তালিকায় ওঠেনি বলে মনে হলেও, নতুন করে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।
যোগ্য ভোটার বাদ না পড়ার জন্য বিশেষ উদ্যোগ
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আধিকারিকদের এমনভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনও যোগ্য ভোটার অযথা বাদ না পড়েন।
এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ প্রচার কর্মসূচির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে ভোটার তালিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তথ্যের ঘাটতি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে যাঁরা নিজেদের নাম তালিকায় দেখতে পাচ্ছেন না, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার সুযোগ সম্পর্কে জানানোই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ভোটারদের কী করা উচিত?
SIR-পরবর্তী সময়ে ভোটার তালিকায় নাম নেই এমন ব্যক্তিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া এবং নিয়ম মেনে পদক্ষেপ নেওয়া।
প্রথমে নিজের নাম পরীক্ষা করুন।
নাম না থাকলে সংশ্লিষ্ট ERO-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি প্রস্তুত করুন।
নিয়ম অনুযায়ী আবেদন জমা দিন।
এরপর কর্তৃপক্ষের যাচাই ও সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করুন।
যাঁরা আগে ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও কমিশনের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন করে আবেদনের সুযোগ রয়েছে।
নাম বাদ পড়লে কি আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন আছে?
ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তবে শুধু নাম না পাওয়ার কারণে আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।
কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
তাই নিজের নাম তালিকায় না থাকলে প্রথমে তথ্য যাচাই করা, তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী ERO-এর কাছে আবেদন করা—এই পথেই এগোনো যেতে পারে।
ভোটার তালিকা নিয়ে গুজব থেকে সাবধান
ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও খবর শুনলে শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা পরিচিত ব্যক্তির কথার ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন দফতরের নির্দেশনা দেখা উচিত।
বিশেষ করে আবেদন, নথি, শুনানি বা নাম অন্তর্ভুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভুল তথ্যের কারণে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তাই সরকারি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
SIR-পরবর্তী ভোটার তালিকা নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির উত্তর
প্রশ্ন: SIR-এর পরে আমার নাম ভোটার তালিকায় নেই। আমি কি আবার আবেদন করতে পারব?
উত্তর: কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হ্যাঁ। SIR-এর সময় বা পরে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই, তাঁরা নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।
প্রশ্ন: কোথায় আবেদন করতে হবে?
উত্তর: সংশ্লিষ্ট Electoral Registration Officer বা ERO-এর কাছে আবেদন করতে হবে।
প্রশ্ন: ট্রাইব্যুনালে আগে আপিল করেছি। এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আমি কি আবার আবেদন করতে পারব?
উত্তর: কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁদের আগের আপিল এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁরাও নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।
প্রশ্ন: শুধু SIR-এ বাদ পড়া ব্যক্তিরাই কি আবেদন করতে পারবেন?
উত্তর: না। নতুন ভোটার এবং প্রথমবার ভোট দিতে চলা যোগ্য ব্যক্তিরাও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।
প্রশ্ন: আবেদন করলেই কি নাম ভোটার তালিকায় উঠে যাবে?
উত্তর: না। আবেদন করার পরে তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হবে। সেই যাচাইয়ের ভিত্তিতে ERO সিদ্ধান্ত নেবেন।
প্রশ্ন: Continuous Updation কী?
উত্তর: ভোটার তালিকা নিয়ম অনুযায়ী চলমানভাবে আপডেট করার প্রক্রিয়াকে Continuous Updation বলা হয়। এর মাধ্যমে যোগ্য নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তি বা প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ থাকে।
প্রশ্ন: ট্রাইব্যুনালে মোট কতগুলি আপিল রয়েছে?
উত্তর: দেওয়া কমিশন-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, SIR-সংক্রান্ত মোট আপিলের সংখ্যা প্রায় ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার।
প্রশ্ন: নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে কতগুলি আপিল হয়েছে?
উত্তর: দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২২ লক্ষ ২১ হাজারের বেশি আবেদন নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে করা হয়েছে।
প্রশ্ন: অন্য কারও নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে কতগুলি আপিল হয়েছে?
উত্তর: প্রায় ১৬ লক্ষ ১০ হাজার আবেদন ভোটার তালিকায় অন্য কারও নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রশ্ন: ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কতগুলি আপিল নিষ্পত্তি হয়েছে?
উত্তর: দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লক্ষ ২৬ হাজার ১৯৪টি আপিল নিষ্পত্তি হয়েছে।
প্রশ্ন: বর্তমানে কতগুলি ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে?
উত্তর: দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল SIR-সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখছে।
প্রশ্ন: ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব আছে?
উত্তর: হ্যাঁ। দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা ৪২টি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ভোটার তালিকায় নাম নেই? এই বিষয়গুলি মনে রাখুন
SIR-এর পর নিজের নাম ভোটার তালিকায় দেখতে না পেলে প্রথমে বিষয়টি যাচাই করা দরকার।
এরপর সংশ্লিষ্ট ERO-এর কাছে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যেতে পারে।
আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সঠিকভাবে দিতে হবে।
যাঁরা আগে ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন, তাঁদের জন্যও নতুন করে আবেদনের সুযোগ রয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।
তবে কোনও আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকের কাছ থেকে প্রযোজ্য নিয়ম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
পুরো বিষয়টি এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| SIR-এর পরে নাম নেই | নতুন করে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যাবে |
| কোথায় আবেদন | সংশ্লিষ্ট ERO-এর কাছে |
| ট্রাইব্যুনালে আপিল বিচারাধীন | নতুন করে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে |
| নতুন ভোটার | আবেদন করতে পারবেন |
| প্রথমবার ভোটার | আবেদন করতে পারবেন |
| আবেদন করার পর | তথ্য ও নথি যাচাই হবে |
| চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত | সংশ্লিষ্ট ERO নেবেন |
| SIR-সংক্রান্ত মোট আপিল | প্রায় ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার |
| বাদ পড়া নাম ফেরানোর আপিল | ২২ লক্ষ ২১ হাজারের বেশি |
| নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপিল | প্রায় ১৬ লক্ষ ১০ হাজার |
| ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিষ্পত্তি | ১ লক্ষ ২৬ হাজার ১৯৪ |
| বর্তমান ট্রাইব্যুনাল | ১৯টি |
| প্রস্তাবিত ট্রাইব্যুনাল | ৪২টি |
| চূড়ান্ত SIR তালিকা | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে |
ভোটারদের জন্য শেষ কথা
SIR-এর পর ভোটার তালিকায় নিজের নাম না থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁদের নাম SIR-এর সময় বা পরে ভোটার তালিকায় নেই, তাঁদের জন্য আবার নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে যাঁরা আগে নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন কিন্তু এখনও সিদ্ধান্ত পাননি, তাঁদের ক্ষেত্রেও নতুন করে আবেদন করার সুযোগের কথা জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রথমবার ভোট দিতে চলা নতুন ভোটারদেরও এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—আবেদন করার পর তথ্য ও নথি যাচাই করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ERO নিয়ম মেনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
তাই SIR-এর পরে নাম নেই দেখে শুধু আপিলের ফলাফলের অপেক্ষায় বসে না থেকে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে।
Table of Contents
সারাংশ
SIR-এর পর ভোটার তালিকায় নাম না থাকা নিয়ে যাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তাঁদের জন্য নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, SIR-এর সময় বা পরে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই, তাঁরা আবার নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।
এর জন্য সংশ্লিষ্ট Electoral Registration Officer বা ERO-এর কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পরে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি যাচাই করা হবে এবং সেই যাচাইয়ের ভিত্তিতে নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আগে নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন কিন্তু এখনও সেই আপিলের নিষ্পত্তি হয়নি—এমন ভোটারদেরও নতুন করে আবেদনের সুযোগ রয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।
শুধু বাদ পড়া ভোটার নয়, প্রথমবার ভোট দিতে চলা নতুন ভোটাররাও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
অন্যদিকে SIR-সংক্রান্ত আপিলের সংখ্যা প্রায় ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। এর মধ্যে ২২ লক্ষের বেশি আবেদন নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে এবং প্রায় ১৬ লক্ষ ১০ হাজার আবেদন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে করা হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লক্ষ ২৬ হাজার ১৯৪টি আপিল নিষ্পত্তি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই বিপুল সংখ্যক আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বর্তমানে থাকা ১৯টি ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪২টি করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, SIR-এর পরে ভোটার তালিকায় নিজের নাম না পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হল—নাম না থাকলে বিষয়টি যাচাই করুন এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ERO-এর কাছে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করুন।
যোগ্য ভোটার যাতে বাদ না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ প্রচার চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তাই আপনার বা পরিবারের কোনও সদস্যের নাম SIR-এর পরে ভোটার তালিকায় দেখা না গেলে বিষয়টি ফেলে না রেখে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে যোগাযোগ করে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।